
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুর মধ্য নরসিংপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, গালিগালাজ এবং পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা ও ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন তিনি।পেশাগত দায়িত্বে বাধা ও হামলা:স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে কাশিপুর মধ্য নরসিংপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। সেখানে মহসীন নামে এক প্রবাসী ওই সাংবাদিকের কাজে বাধা দেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে ওই প্রবাসী সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।প্রবাসী মহসীনের নিজের আঘাতেই নিজে জখম:ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে একজন প্রবাসীর কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ জানতে চান। এ সময় প্রবাসী মহসীন উল্টো নিজের মোবাইল দিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করা শুরু করেন। স্থানীয়রা ভিডিও করতে বাধা দিলে মহসীন তাদের দিকে তেড়ে আসেন এবং বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। একপর্যায়ে মহসীন উত্তেজিত হয়ে সেখানে থাকা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার হাতে তুলে নেন। এ সময় তিনি দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে নোংরা আইন, এগুলি আমি মানিনা।” পরবর্তীতে নিজের হাতে থাকা চেয়ারের আঘাতেই প্রবাসী মহসীন নিজের নাকে জখম প্রাপ্ত হন।সামাজিক সমাধানের নামে কালক্ষেপণ:ঘটনার পর মহসীনের অভিভাবক সেজে ‘আতাবর’ নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় ইট-বালু ব্যবসায়ী আনোয়ারকে ফোন করেন। আতাবর আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান করে দেওয়া হবে এবং কেউ যেন থানায় না যান। সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে পুলিশকে যাতে হয়রানি হতে না হয়—সেই বিবেচনা থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তিন দিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিক সমাধানের তাগিদ দিলে আতাবর ‘মেঘলা আকাশ’ বা বৈরী আবহাওয়ার অযুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।উল্টো পুলিশের তদন্ত ও সাংবাদিকের সরলতা:এদিকে সাংবাদিক আইনি ব্যবস্থা না নিলেও প্রবাসী মহসীনের পক্ষ থেকে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানার এএসআই সামসুল হক ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন। সাংবাদিক প্রশাসনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে সেখানে উপস্থিত হন। তবে সেখানে তথ্য সংগ্রহে একটু বেশি সময় লাগার কারণে পুলিশ কর্মকর্তা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক পুলিশের সাথে যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে।গুলি করে হত্যা ও ‘আয়নাঘরের’ হুমকি:পুলিশের নম্বর চাওয়ার পর প্রবাসী মহসীন তাৎক্ষণিকভাবে ‘বাবু’ নামে এক ব্যক্তিকে ফোনে যুক্ত করেন। ফোনে বাবু নামের ওই ব্যক্তি সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা এবং তুলে নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখার সরাসরি হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জের ডিসি ও এসপির ভয় দেখিয়ে এবং স্থানীয় জাকির খান, দাদা সেলিম, আরিফ মন্ডল ও রোমান সাহেবের নাম ভাঙিয়ে সাংবাদিককে চরমভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়।প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি:এই ঘটনার পর থেকে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে সময় পার করছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং প্রভাবশালী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাননীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply