
ব্যুরো চীফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পরও একটি ল্যাপটপের অভাবে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কামাল হোসেন পিয়াস। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলি উত্তর পাড়া, আদজীনগরের বাসিন্দা এবং একজন সম্পূর্ণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা এই অদম্য মেধাবী যুবক সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের কাছে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় একটি ল্যাপটপ প্রদানের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।আবেদন সূত্রে জানা গেছে, কামাল হোসেন পিয়াস দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্ক্রিন রিডারসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সফটওয়্যার ব্যবহার করে পড়াশোনা, চাকরির প্রস্তুতি, অনলাইনভিত্তিক কাজ ও তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা অর্জন করতে চান তিনি। ল্যাপটপটি তার স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান মাধ্যম হলেও পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজের অর্থায়নে এটি ক্রয় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য এই আবেদন করেন।এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন এই প্রতিবেদকের কাছে তার মানবিক ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “কামাল হোসেন পিয়াসের আবেদনটি আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আমাদের সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছি।”তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি তহবিল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে তাকে খুব দ্রুত একটি ল্যাপটপ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কামাল যাতে তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে চাকরির প্রস্তুতি ও আইটি দক্ষতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেলে তারা সম্পদে পরিণত হতে পারে।”মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পাশে উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া ও আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আশা করছেন, ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগে কামালের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত প্রতিবন্ধী যুবক সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
Leave a Reply