
প্রতিবেদক- মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
সোমবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন নিতাইগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে নোঙর করা একটি লাইটার জাহাজে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাহাজের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনাটি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিতাইগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থানরত “নুর মোহাম্মদ” নামের লাইটার জাহাজে ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর ৮/৪/২৬।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ বিধান (১৬), তিনি নাসিক ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া এলাকার পরান মিয়ার ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা মোঃ রেজাউল চৌধুরী (৪৪) উক্ত জাহাজে সুকানি হিসেবে কর্মরত। গত ২৮ মার্চ চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া ট্রেডার্স থেকে ১,২৫০ টন গম নিয়ে জাহাজটি নারায়ণগঞ্জে এসে নিতাইগঞ্জের বালুর ঘাটে নোঙর করে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহাজের গ্রীজার মোঃ সুমন মোবাইলে কথা বলার সময় তিনজন ব্যক্তি তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় জাহাজের অন্য কর্মীরা এগিয়ে এলে তারা সরে যায়। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে ওই ব্যক্তিরা আরও ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ জাহাজে হামলা চালায়। জাহাজের কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে একজনকে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে শুভ (২৫), রনি (২৬), সিয়াম (২৫)সহ আরও ২৫-৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় জাহাজে হামলা চালায়। এ সময় লস্কর সামিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া ড্রাইভার মোঃ কামাল লোহার রডের আঘাতে আহত হন এবং সুকানি রেজাউল চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন কর্মী আহত হন।
হামলাকারীরা জাহাজের কেবিনে ঢুকে নগদ ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। পরে আশপাশের জাহাজের লোকজন এগিয়ে এলে তারা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথম হামলার সময় জাহাজের শ্রমিকরা একজনকে আটক করলেও পরে তার সহযোগীরা এসে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া গ্রেফতারকৃত বিধান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলায় নির্দেশনা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনজনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
লঞ্চ লেবারেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। জাহাজে এসে বিভিন্ন সময় মোবাইল ও টাকা লুট করা হয় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলার শিকার হতে হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply