
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুরে চাঁদা না পেয়ে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে এলোপাথাড়ি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ৩০শে জুলাই (২০২৬) রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকায় কাশিপুর মধ্য নরসিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাশিপুর মধ্য নরসিপুর এলাকার ড্রেজার ব্যবসায়ী রুবেলের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল স্থানীয় বিএনপি নেতা কাদির (পিতা: সোহরাব) এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কথিত নেতা সোহাগ ওরফে ‘ফটকা সোহাগ’। ঘটনার দিন রাতে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাদির ও সোহাগের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং লিডার মেহা ওরফে মেহাবুব, মুরগি আল আমিন (পিতা: মোহাম্মদ আলী) এবং জয়নাল (পিতা: সোহরাব) সহ একদল সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী রুবেলের ওপর চড়াও হয়। তারা রুবেলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এদিকে কথিত ছাত্রদল নেতা ছেচরা সোহাগের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নরসিপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেছেন এই সোহাগ। অথচ বিগত দিনে তাকে এলাকার এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক সিগারেট কেড়ে নিয়ে সেবন করতেও দেখেছে মানুষ।
বর্তমানে সোহাগের বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি ফোন ব্যবহার এবং অঢেল টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে সাধারণ ভাড়াটিয়া—কেউই সোহাগ বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কিছুদিন পূর্বেও এই সোহাগ ও তার গ্যাং এলাকার সুপরিচিত সালিশ ব্যক্তিত্ব কাজল মাদবরের বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে মাদকের মিথ্যা ট্যাগ দিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও কাশিপুরবাসী অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং চক্রের কবল থেকে মুক্তি চান। তারা এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে চলা কথিত নেতা সোহাগের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।