
নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার গোগনগর ইউনিয়নের বাড়িরটেক এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা মাদক ব্যবসা বন্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এলাকাবাসী। দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই এলাকার মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের মতো বড় ধরনের যৌথ অভিযান দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িরটেক এলাকায় মাদক ব্যবসার মূল হোতা সোহেল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে খোলস বদলে যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সোহেল সেই দলের প্রভাবশালী মহলের শেল্টারে চলে যায়। এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে কাজে লাগিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে তার মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে মাসোয়ারা বা নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সে নিজেকে গ্রেপ্তার ও আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখছে বলেও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেলের মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘পাগলনী’র ছেলে সাহাবুদ্দীন, ফারুকের ছেলে শাকিল এবং অজ্ঞাত পিতার ছেলে জসু। এছাড়া মাদবর পট্টির কাদির ও তাওলাদসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। মাদকের সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিত করতে এই চক্রটি সুকৌশলে এলাকার বেশ কিছু নারী ও শিশুকেও মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, "আমরা টেলিভিশনে দেখেছি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামে প্রশাসন যেভাবে যৌথ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, আমাদের বাড়িরটেকেও ঠিক তেমন একটি সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন। তা না হলে এই গভীর সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।"
এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি ও কার্যকর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অনতিবিলম্বে বাড়িরটেক এলাকায় যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।