
প্রতিবেদক- মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পিতা শের আলীকে হত্যার চেষ্টা ঘটনার ছেলে মাসুদকে গ্রেফতারের পর বিষয়টি সমঝোতা করার চেষ্টা করে ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেন । গুরুতর আহত পিতাসের আলী ওসির সেই নির্দেশনা না মানায় পাল্টাপাল্টি মামলা নিয়েছে ইন্সপেক্টর তদন্ত। এ ঘটনায় আজ রোববার ৫ মার্চ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাটি কে পারিবারিক বিষয় আখ্যা দিয়ে সমাধানের কথা বলে। তবে তার এ সমাধানের বিষয়টিতে রাজি হয়নি ছেলের দ্বারা হত্যার চেষ্টা ঘটনায় গুরুতর আহত শের আলী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেন আটককৃত ছেলে মাসুদের পক্ষ নিয়ে তার মাকে দিয়ে ছোট ছেলে রিপন ও যারা প্রত্যক্ষদর্শী আত্মীয়-স্বজন থানায় গিয়েছিলো তাদেরকে আসামি করে আরো একটি হয়রানি মূলক পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়ের করার পর শের আলীর ছোট ছেলে রিপন, ছোট দুই বোন বানেছা,আনোয়ারা ও ছোট ভাই হালিম পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আহত শের আলীর বড় ছেলে মাসুদ বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে টাকা পয়সা চাইতো। টাকা পয়সা না দিলে মাঝেমধ্যেই পিটার গায়ে হাত তুলত মাসুদ। এর আগেও মারধরের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিল শের আলী। সেই মামলা চলা অবস্থায় গত তিন মাস আবারো পেতান নিকট টাকা দাবি করে মাসুদ। শের আলী তখন টাকা না দিয়ে উল্টো ভরণপোষণ বিষয় উত্থাপন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ তার পিতার উপর হামলা চালায়।এক পর্যায়ে কাঠের ডাঁসা দিয়ে পিতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখন করে।এবার তার আত্মচিৎকারে ছোট বোন, ভাই ও তার ছোট সন্তান রিপন ছুটে আসলে কাদের উপর হামলা চালায় মাসুদ। এরপর হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় শের আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফতুল্লা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গত ৪ মার্চ মাসুদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেন বিষয়টিকে পারিবারিক আখ্যা দিয়ে সমঝোতার অফার দেন। এই সমাজতায় আহত শের আলী রাজি না হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্সপেক্টর তদন্ত মাকে দিয়ে ছোট ছেলে রিপন সহ আরো তিনজন আত্মীয়কে জড়িয়ে একটি মারামারি মামলা রুজু করেন।
এ বিষয়ে গুরুতর আহত শের আলী জানান, তার বড় ছেলে মাসুদ একে একে কয়েকবারই তাকে মারধর করেছে। এরপর থেকেই মাসুদ তার স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকে এবং সন্তানের মা সেও অন্যত্র আলাদা থাকে। এবং ছোট ছেলে রিপন পিতার সাথে থাকে।
গত ৩ মার্চ তাকে হত্যার চেষ্টা করে। ব্যাপকভাবে তার ওপর অতর্কিত আমরা চালায়। এ ঘটনায় তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত এবং পায়ের হাড্ডি ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা থানায় গেলে পুলিশ তার ঘাতক ছেলে মাসুদকে আটক করে। কিন্তু বাদ সাধে মামলা করার ক্ষেত্রে। ফতুল্লা থানার ওসি তদন্ত বিষয়টি সমঝোতা করার কথা বলে। কিন্তু গুরুতর আহত শের আলী আপোশ না করে বিচার চেয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেন। এরপর তাদের মামলাটি নিয়ে সারাদিন ধরে চলে নানা নাটকীয়তা। পরবর্তীতে ছোট ছেলে রিপনের বিরুদ্ধে মাকে দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে ওসি তদন্ত বলে জানায় আহত শের আলীর বোন বানেছা বেগম। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তিনি বিচার কামনা করেন।
এদিকে শের আলীর ছোট ছেলে রিপন জানান, আমার মা থাকে বড় ভাইয়ের সাথে তার সাথে তো আমার কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়ার কথা না আর গায়ে হাত তোলা তো দূরের কথা। ওসি তদন্তের কথা আমার বাবা রাখে নাই বিধায় সে উদ্দেশ্যপূর্ণমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে ওসি তদন্ত। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইন বহির্ভূত কাজ। পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী রিপন সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি পারিবারিক বিষয় তাই আমরা চাচ্ছি দুপক্ষের উপস্থিতিতে সমাধান করে দিতে। আর যদি সমাধান না হয় তাহলে আমরা উভয় পক্ষের মামলায় নিবো। এদিকে সমঝোতা হয়নি বিধায় সারাদিন আহত শের আলীর মামলাটি নিয়ে দিনভর নানা নাটকীয়তা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শের আলীর ছোট ভাই আব্দুল হালিম। এবং উদ্দেশ্য মূলকভাবে ইন্সপেক্টর তদন্ত পাল্টাপাল্টি একটি মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী কে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোনটা রিসিভ করেননি।