প্রতিবেদক- মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
নারায়ণগঞ্জ শহরে শ্রী শ্রী শীতলা মায়ের বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের শীতলা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দেওভোগ উত্তর পাড় শীতলা মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ শত শত ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতে মুখরিত ছিল পুরো আয়োজন। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করেন, যা শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী দিদার খন্দকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য, সমাজসেবক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দিদার খন্দকার বলেন, বিএনপি সব সময় সকল ধর্মকে সমান চোখে দেখে। আমরা বিশ্বাস করি—ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই ধারা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আমরা সকল ধর্মের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
দিদার খন্দকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রী শ্রী শীতলা মায়ের পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। আমরা মুসলমানরা যেমন ঈদ উদযাপন করি, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজা, শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন উৎসব পালন করেন। বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও তাদের নিজস্ব উৎসব উদযাপন করেন—এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের সৌন্দর্য।
তিনি আরও বলেন, কাউকে সম্মান করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না। বরং এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা পায়। আমাদের উচিত সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দরা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রী শ্রী শীতলা মায়ের পূজাকে কেন্দ্র করে তারা নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছেন। তারা এই ধরনের শোভাযাত্রা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করতে চান।
শোভাযাত্রা শেষে দেওভোগ উত্তর পাড় শীতলা মন্দিরে বিশেষ পূজা, আরতি ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এতে ভক্তরা অংশগ্রহণ করে দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের আয়োজন নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী শীতলা মায়ের পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই পূজা উদযাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে শোভাযাত্রা, পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় মানুষের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।